
আমি একবার দেখি বারবার দেখি বাঙলার মুখ….
বিকালটা বিষন্ন থাকলেও,সন্ধ্যায় কৃত্রিম ফ্লাড লাইটের আলোয় ঝলমলিয়ে উঠলো চারদিক। স্পিন্টারদের দৌড়ে অলিম্পিক মেডেল জেতার কোন চেস্টাই ছিলনা স্টেডিয়ামের সিন্থেটিক টার্ফে।ছিল উপচে পড়া অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙ্গালীদের ভিড়। চলতি ১৪১৬ সালের পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে গেল শনিবার(১৮ এপ্রিল ২০০৯) সিডনীর অলিম্পিক পার্কের এ্যাথলেটিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙ্গালীদের সবচাইতে বড় মিলন মেলা বৈশাখী মেলা। বছরের এই একটি দিনের জন্যেই যেন অপেক্ষা।প্রবাসের ব্যস্ততম জীবনের ফাক গলিয়ে এই দিনটিতেই আনন্দের জোয়ার নামে।
বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া শাখার একাংশের উদ্যোগে আয়োজিত মেলার সময়সীমা ছিল সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা।কিন্তু বাঙ্গালীর চিরায়ত রেওয়াজ মেনেই লোক সমাগম শুরু হয় অপরাহ্নের পর। যা একপর্যায়ে ঢলে রূপ নেয়।
গতানুগতিক ধারাকে অক্ষুন্ন মেলার মুল আকর্ষন ছিল হরেকরকম দেশী খাবারের স্টল। সিঙ্গারা, পেয়াজু, জিলাপী, লুচি, লাবরা থেকে কাচ্চি-পাক্কি বিরিয়ানী সমাহার ছিল স্টলে, স্টলে। তবে আয়োজন ছিল না পান্তা-ইলিশের।হয়ত ব্যবসায়িক সাফল্যের সম্ভাবনা না থাকায় উদ্যোক্তারা সযন্তে এড়িয়ে গেছেন বিষয়টি।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এবারের মেলায় সর্বমোট ১৫হাজার লোকের সমাগম ঘটেছিল। খাবারের স্টল ছাড়াও ঢাকা, কোলকাতা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন দৈনিক ও সাময়িকীর প্রদর্শনী নজর কেড়েছে সবার। ক্যানবেরাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের স্টলটি অন্ধকারের মধ্যে হারিয়ে থাকাটায় আয়োজকদের উদাসীন বোধের পরিচয় পেয়েছে। সরেজমিনে স্টল পরিদর্শনে মনে হয়েছে এই স্টল এমনকিছু ছিল যা প্রবাসী মাইগ্রেন্ট এবং অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা দ্বিতীয় প্রজন্মের জন্যে জানা ও দেখা অত্যাবশ্যক।
মেলা প্রাঙ্গনে আগত বিভিন্ন প্রজন্মের ফ্যাশান ও পোষাকে বৈচিত্র ছিল লক্ষ্যনীয়। অপেক্ষাকৃত কমবয়সস্ক তরুন তরুনীদের মধ্যে পোষাকে পাশ্চাত্যের ট্রেন্ড বারেবারেই মনে করিয়ে দিয়েছে পশ্চিমা সংস্কৃতির দেশ অস্ট্রেলিয়ায় বাঙ্গালী রক্ষনশীলতার উদার পরিশীলন শুরু হয়েছে।
মেলার সর্বশেষ আকর্ষন ছিল ফায়ার ওয়ার্কস। আকাশে আলোক বিচ্ছুরন সৃস্টিতে অস্ট্রেলিয়া বিখ্যাত হওয়ায় বাঙ্গালী মেলায় এর গুনগত আয়োজন নিয়ে সরব ছিল সবাই। এবার মেলার এই অংশটিতে দুর্বলতা ছিল লক্ষ্যনীয়। যা মেলায় আগতদের হতাশ করেছে। তবে সব ছাপিয়ে স্টেডিয়ামের দর্শক গ্যালারীতে বসে মাঠের অস্থায়ী মঞ্চের সাংস্কৃতির অনুষ্ঠান ছিল সত্যিই উপভোগ্য। প্রবাসী ব্যান্ড সঙগীতের দল কৃস্টিকে সুর সৃস্টিতে আরো শিখতে হবে। যেতে হবে বহুদুর।বেসুরো কন্ঠে ওয়ারফেইজের বান্না-সঞ্জয়ের মত প্রতিষ্ঠিত ব্যান্ড তারকাদের গান গাওয়ার দুর্দান্ত সাহস দেখিয়ে কৃস্টির সৃস্টিছাড়া কর্মকান্ড শ্রোতা-দর্শকদের বিরক্ত করেছে।মেলার মুল উদ্যোক্তা শেখ শামীম ঘটে যাওয়া ত্রুটিগুলো এড়াতে আগামীতে বিশেষ নজর দেবেন এটাই সকলের প্রত্যাশা।
সবকিছু ছাপিয়ে এখনো কানে বাজছে বাঙলাদেশ থেকে আগত শিল্পী মাহমুজ্জামান বাবুর কন্ঠে গাওয়া প্রতুল মুখপাধ্যায়ের বিখ্যাত গান….
“আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাঙলার গান গাই।
আমি আমার আমিকে চিরদিন এই বাঙলায় খুঁজে পাই”….
আমি বাঙলায় দেখি স্বপ্ন, আমি বাঙলায় বাধি সুর
আমি এই বাঙলার মায়াভরা পথে হেটেছি এতটা দুর…
আমি একবার দেখি বারবার দেখি বাঙলার মুখ….
নিজস্ব প্রতিবেদক, পিওবিডি ডট নেট।