বছর ঘুরে গতকাল (২৮চৈত্র ১৪১৫; ১১ এপ্রিল ২০০৯) আবারো শেষ হয়ে গেলো সিডনীর টেম্পী পার্কের বৈশাখী মেলা। এই মেলাকে কেন্দ্র করে সিডনী মুল শহর থেকে দক্ষিনে অল্প দুরে বিখ্যাত প্রিন্সেস হাইওয়ের পাশে টেম্পী পার্ক প্রবাসী বাঙ্গালীদের অতিপরিচিত স্থান হয়ে উঠেছে।  গত দুবছরের তুলনায় এবছর মেলায় লোক সমাগম ছিল অনেক। পরিসর   বৈচিত্র বেড়েছে বহুগুন। পরিচিতির ব্যাপকতার কারনে বঙ্গবন্ধু পরিষদ, অস্ট্রেলিয়া শাখার একাংশের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় ভিন্ন শহর অ্যাডিলেইড, মেলবোর্ন এমনকি সাগর পাড়ি দিয়ে নিউজিল্যান্ড থেকেও বাঙ্গালীরা হাজির হয়েছিল মেলা মাঠে। চিরায়ত নিজ সংস্কৃতি মননের আবাহনে ছুটে আসা বাঙ্গালীদের ভিড়ে গভীর রাত পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গন ছিল মুখরিত।

 

বরাবরের মত মেলার মুল আকর্ষন ছিল হরেক রকমের খাবরের স্টল। মুল প্রবেশের মুখে চাদনী চক ফুড স্টল তাদের ফুচকা, চটপটির সম্ভার নিয়ে বসেছিল। প্রবাসে দুর্লভ এই মুখরোচক খাবারের পরিবেশক সর্বজন শ্রদ্ধেয় হাবিব ভাইয়ের আপ্যায়নে কোন ক্রটি ছিল না। তবে এক ডলারে একটি ফুচকা খেয়ে অনেককেই মনকস্টে ভুগতে দেখা গেছে।  পিতাপুত্রের একচেটিয়া ব্যবসার বলয় ভেঙ্গে হাজী সাহেবের মেয়ে এবার অস্ট্রেলিয়া থেকে তার কাচ্চি বিরিয়ানীর ব্যবসা শুরু করলেন! ঢাকার ঐতিহ্যবাহীর হাজীর বিরিয়ারীর কর্নধান প্রয়াত হাজী ফকরুদ্দিন সাহেবে কোন মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় দেশান্তর হয়েছেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহের যথেস্ট অবকাশ থাকলেও গতকালের মেলায় "হাজীর মেয়ের বিরিয়ানী" নজর কেড়েছে সবার। এছাড়া বাহরী মশল্লা দিয়ে ঝালমুড়ি, কাবাব পরোটা ছিল বিক্রয় বিচারে "টপসেল"

 

প্রবাসে বাঙলা ভাষা সংস্কৃতির প্রসার ঘটাতে সাহিত্য গবেষনাধর্মী বিভিন্ন বাংলা ভাষায় রচিত বইয়ের পসার নিয়ে বসেছিল "মেরুদন্ড বিক্রয় কেন্দ্র" নামকরন নিয়ে খটকা লাগলেও রুপক অর্থে শিক্ষাকে ইঙ্গিত করে ব্যতিক্রম ধর্মী এই স্টল দর্শক ক্রেতার দৃস্টি আকর্ষন করতে পেরেছে সফলভাবে।

 

মেলার অন্যান্য অংশে স্বদেশী নকশীকাঁথা, পুতুল, মেয়েদের বাহরী গহনা, শাড়ী, ফতুয়া, সালোয়ার,কামিজসহ বিভিন্ন মনোহরী পন্যের দোকান ছিল উল্লেখ করার মত। উদ্যোক্তাদের আয়োজনে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মঞ্চ মাঠের একপাশে হয়ে গেলেও শ্রোতা-দর্শকের কমতি ছিল না।

 

বছর জেনারেটরের মাধ্যমে রাতে মাঠে ফ্লাড লাইটের ব্যবস্থা করায় মেলার আকর্ষন বেড়েছে বহুগুন। অবষন্ন মেঘলা দিনে রূপ সজ্জিত তরুনীদের দিনের আলোয় সাদামাটা লাগলেও রাতের রঙ্গীন আলোয় তাদের লেগেছিল অপ্সরীতুল্য। তাই রাতের অংশটি ছিল "রূপের মেলা" গভীর রাত পর্যন্ত বাংলা ব্যান্ড সংগীতের বিট মুর্ছনা মেলা প্রাঙ্গনকে করেছিল তুলেছিল আরও মোহময়।

 

সার্বিক দৃস্টিকোন থেকে মেলা সফল হলেও কিছু বিষয়ে উদ্যোক্তাদের উদাসীনতা ছিল দৃস্টিকটু। ময়লা আবর্জনা সরানোয় ছিল চরম বিশৃঙ্খলা। যা মেলা মাঠকে নোংরা করেছিল অল্প সময়ে। স্বল্প সংখ্যক ভিন্ন সংস্কৃতির লোকের কাছেও বিষয়টি ছিল বিব্রতকর। গাড়ী পার্কিং নিয়েও আগতদের মধ্যে ছিল অসন্তুষ্টি। আগামী মেলায় আয়োজকরা সচেস্ট হবেন প্রত্যাশা সবার।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিওবিডি ডট নেট।